চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০

কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা জনগণের জয়,সরকারের পরাজয়: মওদুদ

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০১৮-০৪-১১ ১৮:৫১:৪২   বিভাগ:

বুধবার,১১এপ্রিল,২০১৮

 

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার মাধ্যমে সরকারের পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।

বাংলাদেশ লেবার পার্টি ‘নির্বাচনে সেনা মোতায়েন: নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে।

কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে কোনো কোটা ব্যবস্থা থাকবে না। উনি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছেন, এই কোটা আন্দোলন কত বেগবান হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বুঝতে পেরেছে এই আন্দোলন যদি চলে, তাহলে তো তাদের ক্ষমতায় থাকাটাই কঠিন হবে। আওয়ামী লীগ যে তাদের ক্ষমতা এই আন্দোলনের মাধ্যমেই হারাতে পারে, তা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বুঝতে পেরেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। তাই আমি বলতে চাই বলতে চাই- এটা জনগণের বিজয় হয়েছে। সরকারের পরাজয় হয়েছে।’

এসময় দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এভাবেই আগামীতে আমাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে এবং আগামীতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’

কোটা সংস্কারে আন্দোলনকারীদের দাবিকে যৌক্তিক দাবি করে তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে এই সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে মানুষ ও ছাত্রসমাজের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে। এটা শুধু কোটা নিয়ে নয়, তাদের (শিক্ষার্থী) মনে অনেক ক্ষোভ। তারা তো দেখছে- দেশ কিভাবে চলছে, দেশে কী ধরনের গণতন্ত্র আছে তারা জানে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘আজকে কোটাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন, এটার অনেক গভীর তাৎপর্য আছে বলে আমি মনে করি। এর মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজ সারাদেশের মানুষের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তলিয়ে দেখতে হবে। এর মধ্যে নিশ্চয়ই অনেক কিছু আছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আমরা যখন ছাত্র আন্দোলন করতাম, আমাদের সবাইকে পাকিস্তান সরকার ও প্রশাসন বলতো এরা কমিউনিস্ট। আমাকে পর্যন্ত কমিউনিস্ট বলতো। সরকারবিরোধী হলেই কমিউনিস্ট।

‘এখন আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থা হয়েছে ওই রকম। আওয়ামী লীগ ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেই বা তার সমালোচনা করলেই সবাই রাজাকার। এই মতিয়া চৌধুরী (কৃষিমন্ত্রী), আমি তো কারো নাম নিয়ে কিছু বলি না, আমার মনে হয় তার উচিৎ হবে পদত্যাগ করা। তা নাহলে সারা জাতির কাছে তাকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়া।’

লেবার পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি এসএম ইউসুফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. ফরিদউদ্দিন প্রমুখ।



ফেইসবুকে আমরা