চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভিন্নখাতে নিতেই ভিসির বাসভবনে হামলা: রিজভী

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০১৮-০৪-১০ ০৯:৪৪:০৭   বিভাগ:

মঙ্গলবার,১০ এপ্রিল,২০১৮

 

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক: কোটা সংস্কারে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভিন্নখাতে নিতেই সরকারী এজেন্টদের দিয়ে ভিসির বাসভবনে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নয়াপল্টনের দলটির কেন্দীয় কার্যালয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ঢাবির ক্যাম্পাসতো ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দখলে ছিল। ঢাবি ক্যাম্পাসে এ মুহুর্তে ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী ছাড়া আর কেউ হামলা, ভাংচুর করার সাহস রাখে কি ?
রিজভী আরো বলেন, এই হামলা পরিকল্পিত। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ক্যাম্পাসে প্রবেশের দশ মিনিটের মাথায় এই হামলা সংঘটিত হলেও এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্বেও ভিসি’র বাসভবনে দু’ঘন্টাব্যাপী হামলা রহস্যজনক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ভিন্নখাতে নিতেই সরকারী এজেন্টদের দিয়ে ভিসির বাসভবনে হামলা হয়েছে কি না এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে বারবার সরকারকে তাদের দাবি জানালেও দীর্ঘদিন মন্ত্রীরাসহ শীর্ষ নেতারা উল্টো মেধাবী শিক্ষার্থী ও চাকুরী প্রার্থীদের গুলি করতে ও গ্রেফতার করতে পুলিশকে নিষ্ঠুর আদেশ দিচ্ছে। প্রথমে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানানো হলেও এখন আবার আলোচনায় বসলেন সেটিও তামাশার। তামাশা এজন্য যে, আলোচনায় বসার পরেও হুমকি দেয়া হচ্ছে ফুটেজ ধরে বেছে বেছে গ্রেফতার করার জন্য। অর্থাৎ এটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকুরী প্রার্থীদেরকে ভয় দেখানোর জন্য। শিক্ষার্থী ও চাকুরী প্রার্থীদের দাবি হলো তারা মেধার ভিত্তিতে চাকুরি চায়, মেধার মুল্যায়ন চায়। তাদের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণ কেন ?
তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গত দু’দিনে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হানাদার বাহিনীর হামলাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর রবিবার রাতভর কি নিষ্ঠুরভাবে গুলি করা হয়েছে, টিয়ারশেল মারা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, হাসপাতালে শত শত ছাত্র-ছাত্রী যেভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছিল তা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিন্দার ঝড় বইছে।
রিজভী বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে, তাদের দাবি মানার জন্য বারবার সরকারের কাছে আহবান জানিয়ে আসছে কিন্তু তাতে সরকারের পক্ষ থেকে কোন কর্ণপাত করা হচ্ছে না। গতকালও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতারা তাদের সঙ্গে লোক দেখানো বৈঠক করলেন। তারা কি বললেন-একমাস পর বিষয়টি দেখবেন, কিন্তু আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দিয়ে বললেন কারা ভাংচুর ও হামলায় জড়িত তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ছাড়া হবে। গুলি, হামলা, ভাংচুর তো করেছে ছাত্রলীগ। গণমাধ্যমে সেসব খবর বেরিয়েছে, ছবি প্রকাশ হয়েছে তাদের ধরছেন না কেন? সাধারণ শিক্ষার্থীরাতো জানিয়ে দিয়েছে ভিসির বাসভবনে তারা হামলা করেনি।
রিজভী আরো বলেন, গতকাল অর্থমন্ত্রী বলেছেন দেশে সৎ লোকের সংখ্যা বাড়ছে। ক্ষমতাসীনদের দেশ পরিচালনার সাবজেক্ট জনগণ নয়, তাদের সাবজেক্ট জনগণের সাথে মশকরা করা। এই অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা লুট হওয়াকে আশকারা দিয়ে বলেছিলেন-চার হাজার কোটি টাকা লোপাট হওয়া কোন দুর্নীতি নয়-এখনও সেই কথা মানুষের স্মৃতি থেকে বাসী হয়ে যায়নি। রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সেক্টরের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ হয়ে অর্থমন্ত্রীর ঐ মন্তব্যটি অপরাধ মনস্কতা। দুর্নীতির মহাযজ্ঞে হাইওয়ে খুলে দিয়েছেন দেশের অর্থমন্ত্রী। দুর্নীতির টাকা পাচার করছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক রুই-কাতলা, বিদেশে সেই টাকায় পালিত হচ্ছে তাদের পরিবার। আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে পালাচ্ছেন এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা, নিরাপদ আশ্রয়ে থাকছেন বিদেশে। সবচেয়ে বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারী হয়েছে এই অর্থমন্ত্রীর আমলে। রাজকোষ থেকে উধাও হয়ে গেছে আট’শ কোটি টাকা। বন্ধুরা, আওয়ামী নেতারা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত গচ্ছিত সম্পদের ওপর এখন গড়াগড়ি খাচ্ছেন। অথচ এসব বিষয়ে নীরব অর্থমন্ত্রী নিজেদের সরকারকে সৎ মানুষ উৎপাদনের ফ্যাক্টরী বলে মনে করছেন।
জিডিপির’ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের ঘোষণা চাপাবাজি। গতকাল বিশ্বব্যাংক বলেছে-দেশে বিনিয়োগ স্থবির, রপ্তানী আয় কমছে, সকল খাতে প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক। তাহলে জিডিপি বাড়লো কীভাবে, এ প্রশ্ন করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক আরো বলেছে-জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ এর বেশী হবে না। লুটপাটের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত আওয়ামী সরকার ডাহা মিথ্যার ফেরিওয়ালা।



ফেইসবুকে আমরা