চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

‘উগ্রবাদীদের টার্গেটে শাহজাহান বাচ্চুর নাম ছিল’

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০১৮-০৬-১২ ০১:৪২:১৮   বিভাগ:

 

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুর নাম উগ্রবাদীদের হিট লিস্টে ছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মুন্সীগঞ্জ জেলা সভাপতি শ ম কামাল। তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে বাচ্চু ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। পরে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ২০১২-১৪ মেয়াদে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি দলের কোনও পদে নেই।’

সোমবার (১১ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের পূর্ব কাকালদী গ্রামে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন লেখক ও বিশাখা প্রকাশনীর মালিক শাহজাহান বাচ্চু (৬০)।

শ ম কামাল বলেন, ‘বাচ্চু বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকলেও ইদানিং গ্রামের বাড়িতেই বেশি থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যার কিছু আগে তিনি যখন তার বাড়ির পাশের ছোট একটি বাজারে ওষুধের দোকানে বসে গল্প করছিলেন তখন দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে বোমা ফাটিয়ে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করে। তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে আবার বাইকে করে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন বলেন, ‘বাচ্চু ভাই মুক্তমনা লেখক ছিলেন। বিশাখা প্রকাশনী নামে তার নিজের একটি প্রকাশনা সংস্থা আছে ঢাকায়। তার পরিবার ঢাকায় থাকে। তবে আগে তিনি গ্রামে তেমন একটা না থাকলেও ইদানিং গ্রামে বেশি থাকতেন। ’

তিনি আরও জানান, কয়েকদিন আগেও বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে রাস্তায় তার দেখা হয়। উগ্রবাদীদের তালিকায় তার নাম আছে বলে বারবার সাবধান করে দিলেও তিনি পাত্তা দেননি।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, ‘দুই মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন দুর্বৃত্ত এসে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে তারা কারা আমরা জানতে পারিনি। মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা এসেছিল তাই পুলিশ সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েছে।’ এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চুর স্ত্রীর কাছ থেকে রাতে জানতে পারি যে, কে বা কারা তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এ হুমকির ব্যাপারে সপ্তাহখানেক আগে শাহজাহান বাচ্চু তার স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে কখনও কোনও আবেদন করেননি।’

জানা গেছে, শাহজাহান বাচ্চু লেখালেখি করতেন। ‘রং ঢং তামাশা’ নামে তার একটি ছড়ার বই বেশ আলোচিত। তবে ইদানিং তিনি ফেসবুকেই বেশি লেখালেখি করতেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ড জঙ্গি হামলা কিনা তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। ইউনিটের একজন কর্মকর্তা জানান, হামলার ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে এটি জঙ্গি হামলা বলে মনে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



ফেইসবুকে আমরা