চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১

বিশ্বকাপে টিকে থাকতে বাংলাদেশের চাই ১৪৩ রান

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০২১-১০-২৯ ১৮:৩৪:৫৯   বিভাগ:

 

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক :: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের দরকার ১৪৩ রান। বৃহস্পতিবার শারজায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ সাত উইকেটে ১৪২ রান।

জয় খরা থাকলেও বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টস ভাগ্য বেশ ভালো মাহমুদউল্লাহর। ছয় ম্যাচের পাচটিতেই টস জিতেছেন মাহমুদউল্লাহ। এবার টস জিতে ক্যারিবীয়দের ব্যাটিংয়ে পাঠান টাইগার অধিনায়ক। বল হাতে ইনিংসের বোলিং উদ্বোধন করেন মেহেদী হাসান। টি-টোয়েন্টিতে ২৪ ইনিংসে এই নিয়ে ১২ বারই নতুন বল হাতে নিলেন মেহেদি। ইনিংসের প্রথম ওভার করলেন দশমবার। প্রথম ওভাওে তিনি দেন ৪ রান।

তৃতীয় ওভারে রান আউটে সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের বল আলতো ব্যাটে পয়েন্টের দিকে ঠেলেই রান নিতে ছোটেন গেইল। মাঝ পিচ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেন এভিন লুইস। বল তখন ফিল্ডার সাকিবের হাতে। ফেরার সময় নেই দেখে হাল ছেড়ে দেন গেইল। কিন্তু অনেক সময় পেয়েও সরাসরি থ্রো স্টাম্পে লাগাতে ব্যর্থ সাকিব।

তবে একই ওভারে দলের হয়ে প্রথম উইকেট এনে দেন মোস্তাফিজই। ফেরান ওপেনার এভিন লুইসকে। বেশির ভাগ ডেলিভারি স্লোয়ার বা কাটারে নিলেও মোস্তাফিজের এই ডেলিভারি ছিল সিম-আপ ডেলিভারি। লেংথ ডেলিভারিটিকে গায়ের জোরে উড়িয়ে মারেন লুইস। ব্যাটের কানায় লেগে বল ওঠে কেবল ওপরে। ছুটে আসেন তিনজন ফিল্ডার, শেষ পর্যন্ত স্কয়ার লেগ থেকে এসে ক্যাচ জমান মুশফিক। ৯ বলে ৬ রানে ফেরেন লুইস। চতুর্থ ওভারে মাঠের হ্যামস্ট্রিংয়ের টানের কারণেই হয়তো মাঠ ছাড়েন সাকিব। শুশ্রুষা নিয়ে তিনি আবার মাঠে ফেরেন ষষ্ঠ ওভারে।

ভয় ছিল গেইলকে নিয়ে। ভাগ্য ভালো জ্বলে উঠতে পারেননি ক্যারিবীয় এই ব্যাটিং দানব। তাকে ফেরান স্পিনার মেহেদী হাসান। রান না পেয়ে হাঁসফাঁস করছিলেন গেইল। রাউন্ড দা উইকেটে করা মেহেদীর স্টাম্প সোজা বল পা বাড়িয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন, ফলাফল বোল্ড। ১০ বলে ৪ রান সম্বল ইউনিভার্স বসের। পাওয়ার প্লেতে উইন্ডিজের রান ২৯।

সপ্তম ওভারে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ ছাড়েন মেহেদী। ব্যক্তিগত ৯ রানে বেচে যান রোস্টন চেইস। অবশ্য পরের বলেই নিজের প্রায়শ্চিত্ত করেন মেহেদী। গায়ের জোরে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন হার্ড হিটার শিমরান হেটমায়ার (৭ বলে ৯)।

দশম ওভারে প্রথম বল হাতে তুলে নেন সাকিব। রান দেন চার। ১০ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৩ উইকেটে ৪৮ রান। ১৩তম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে একটি সিঙ্গেল নেওয়ার পর হুট করেই ড্রেসিং রুমের দিকে হাঁটা দেন কাইরন পোলার্ড। যাকে বলে রিটায়ার্ড হার্ট। ১৬ বলে তার রান ৮।

এর পর অবশ্য টিকতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল। কোন বল না খেলেই ক্যারিবীয় এই হিটার বিদায় নেন রান আউট হয়ে। পোলার্ড বেরিয়ে যাওয়ার পর উইকেটে যান রাসেল, তবে নন স্ট্রাইক প্রান্তে তিনি। স্ট্রাইকে থাকা রোস্টন চেইস সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করেন তাসকিনের বল। তাসকিন পা দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন বল। বল তার বুটে লেগে গিয়ে আঘাত করে অন্য প্রান্তের স্টাম্পে। রাসেল তখন ক্রিজের বাইরে।

রান বাড়াতে চেষ্টা করেন চেইস। ব্যক্তিগত ৯ রানের পর আবার জীবন পান চেইস। তখন তার রান ২৭। সাকিবের বলে তিনি ক্যাচ দিলেও তা লুফে নিতে পারেনি মেহেদী হাসান। মিড উইকেটে হাত ফসকে মাথার উপর দিয়ে চলে যায় বল।

শেষের দিকে সময়ের দাবিতে কয়েক ছক্কা হাঁকিয়ে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান। ১৮.১ ওভারে শরিফুলের বলে নাঈমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে করে যান ২৩ বলে এক চার ও চার ছক্কায় ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস। পরের বলেই শরিফুল বোল্ড করেন রোস্টন চেইসকে। ৪৬ বলে দুই চারে তিনি খেলেন ৩৯ রানের ইনিংস।

১৯তম ওভারে শরিফুল দেন মাত্র তিন রান। ডেথ ওভারে চমৎকার বোলিং। শেষ ওভারের শুরুটা ভালো করেছিলেন মোস্তাফিজ। প্রথম বলেই ফেরান এক রান করা ডুয়াইন ব্রাভোকে। তবে পরের দুই বলে দুই ছক্কা হাকিয়ে স্কোর বাড়ান দলে ফেরা জেসন হোল্ডার। শেষ বলেও হাঁকান তিনি ছক্কা। শেষ ওভারে তিন ছক্কায় মোটামুটি চ্যালেঞ্জিং স্কোরে গিয়ে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৫ বলে ১৪ রানে হোল্ডার ও রিটায়ার্ড হার্ট থেকে ফিরে ১৮ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন কাইরন পোলার্ড।
বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম। ৪ ওভারে ২৮ রান দিলেও উইকেটশূন্য সাকিব আল হাসান। দলে ফিরে উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ, ৪৩।



ফেইসবুকে আমরা