চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

চট্টগ্রামে উড়াল সেতুতে সংঘবদ্ধ চক্রের ছিনতাই তৎপরতাঃ ফের ‘সুতার ফাঁদ’

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০২০-১১-১৫ ১৮:০৯:২৩   বিভাগ:

মো.মুক্তার হোসেন বাবু :: চট্টগ্রাম মহানগরীতে পুলিশি চেষ্টার পরও বন্ধ হচ্ছেনা উড়াল সেতুতে সংঘবদ্ধ চক্রের ছিনতাই তৎপরতা। অতীতের মতো এখনো সংঘবদ্ধ এ চক্রের হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না মোটরসাইকেল আরোহীরা। চক্রের ‘সুতার ফাঁদে’ পড়ে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকেও এমন ঘটনা ঘটেছে ফ্লাইওভারে।
রায়হান নামের এক যুবক তার মোটরসাইকেল নিয়ে নগরীর মুরাদপুর থেকে জিইসি মোড় যাচ্ছিলেন। ফ্লাইওবারের মাঝামাঝি গিয়েই তিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। চক্রের সুতার তৈরি মরণফাঁদে পড়ে আহত হয়েছেন। ধারালো সুতার আঘাতে তার গলা কেটে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা তার সামনে আসেননি। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
জানা গেছে, ছিনতাই চক্রের সদস্যরা প্রথমে ফ্লাইওভারের দুই পাশে থাকা রেলিংয়ে টানটান করে বেঁধে রাখেন চোখে দেখা যায়না এমন নাইলনের সুতা। পরে মোটরসাইকেলসহ উল্টে পড়া মাত্রই আশপাশ থেকে ছুটে আসে ওঁত পেতে থাকা চক্রের সদস্যরা। এরপর তারা দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তির টাকা পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে ছটকে পড়েন।
গত শুক্রবার ফাঁদে পড়ে আহত রায়হান বলেন, সহজে জিইসি মোড় যেতেই আমি ফ্লাইওভারে করে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ গলায় সুতার মতো কিছু একটা অনুভব করলে মোটরসাইল থেকে নেমে পড়ি। এক পর্যায়ে দেখি এটি একটি সবুজ কালারের নাইলন সুতা। সুতাটি অনেক ধারালো ছিল। এটি গলায় লাগাতেই গলা ছিড়ে গিয়ে আমার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে সুতাসহ নিয়ে গিয়ে জিইসি মোড়ের আগে একজন পুলিশ সদস্যকে ঘটনা বলি এবং সুতাটি তাকে দিয়ে আমি চলে যাই। তিনি বলেন,আমার আগে আরও একজন ব্যক্তি একই জায়গায় সুতার ফাঁদে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তারও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ফ্লাইওভার দুর্ঘটনা মুক্ত রাখতে তারা সবরকম চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কাজ করছে সিএমপির তিনটি মোটরসাইকেল পেট্রল টিম। যারা সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খুলশী, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানা এলাকার ফ্লাইওভারগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ফ্লাইওভার সিসিটিভির আওতায় নিতে তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। যেটি খুব শীঘ্রই চালু হবে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ফ্লাইওভারে ফের দুর্ঘটনার বিষয়টি মেনে নেয়ার মতো না। এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। তাদের খুজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে আগের ঘটনার তদন্তে গিয়ে এ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্লাইওভার কেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স¤প্রতি আমরা তিনটি মোটরসাইকেল পেট্টোল টিম নামিয়েছি। যারা এখন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত কাজ করছে। ফ্লাইওভারে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের আরও বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বিসয়টি অন্যতম। আমরা শীঘ্রই ফ্লাইওবারে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাবো।



ফেইসবুকে আমরা