চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

চট্টগ্রাম বন্দরে কেনা হচ্ছে ৭০ কোটি টাকার ১০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ২৩টি ক্রেন

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০২০-১১-১৫ ১৮:০২:৫১   বিভাগ:

মো.মুক্তার হোসেন বাবু :: নিয়মিত কার্যক্রমে গতিশীলতা আনায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ৭০ কোটি টাকা মূল্যের ৩০টি ক্রেন ক্রয় করছে। এ লক্ষ্যে দরপত্র আহবান করা হলেও করিগরি শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৩০ মিটার বুমের স্থলে ১৮ মিটার বুমের ক্রেন সরবরাহের সংশোধনীও জারি করা হয়।এদিকে টেন্ডার আহবানের পর দরপত্র দাখিলের দুই দিন আগে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দিতে কারিগরি শর্তের বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কারণে ক্রয় কাজের সচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গোপন সমঝোতা করে গত ৮ নভেম্বর ক্রেনের ৩০ মিটার বুমের স্থলে ১৮ মিটার বুমের ক্রেন সরবরাহের সংশোধনীও জারি করা হয়। “সেনিবোগেন” নামক ওই বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে উচ্চমূল্যে কাজ দিতে প্রথম থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিনের প্রচলিত দরপত্র নীতিমালা উপেক্ষা করে দরপত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট দেশের নাম নির্ধারিত করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গোপন সমঝোতা করে ক্রেন সরবরাহের সংশোধনি জারী করা হয়। বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে এমন সিদ্ধান্তের কারণে একদিকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে অপরদিকে ইউরোপ ও ইতালিকে দরপত্রের বাইরে রাখায় আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হবে চট্টগ্রাম বন্দর এমনটি বলেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তবে এমন অনিয়মের কারণে কোন প্রতিষ্ঠান আইনের আশ্রয় নিলে চট্টগ্রাম বন্দরের ৭০ কোটি টাকার দরপত্রের কার্যক্রম ঝুলে যেতে পারে। ফলে বন্দরের মালামাল হ্যান্ডেলিংয়ের সরঞ্জাম সংগ্রহের দীর্ঘ সূত্রীতার কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। অপরদিকে প্রতিযোগিতা সীমিত করার কারনে চট্টগ্রাম বন্দরের আর্থিক অপচয়ের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে,দরপত্রে নির্ধারিত করে দেয়া অধিকাংশ দেশই এ ধরনের ক্রেন প্রস্তুতে অনভিজ্ঞ। ইউরোপের সর্বোচ্চ ক্রেন প্রস্তুতকারী দেশ ইতালির নামও দরপত্রে বাদ দেওয়া হয়। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে সফলতার সাথে দীর্ঘদিন ব্যবহার হচ্ছে এই ধরনের বিশ্বখ্যাত ক্রেন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ দরপত্র দাখিলের অযোগ্য হওয়ায় প্রতিযোগীতা সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বিশেষ প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামত উচ্চমূল্যে দর উদ্বৃত করার সুযোগ পাবে। এতে কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হবে সরকারের, বন্দর নিম্ম মানের ইকুইপমেন্ট পাবে বলেও অনেকের ধারনা।
এ বিষয়ে ইতালির খ্যাতনামা মোবাইল ক্রেন প্রস্তুত কারক প্রতিষ্ঠান “লোকাটেলি ক্রেনের” স্থানীয় প্রতিনিধি মেসার্স এম এন এস এর মালিক মিজানুর রহমান এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. তারেখ জানায়, এ দরপত্র বন্দরের ক্রয় কাজের জন্য একটি নজির। বন্দরের এই ক্রয় কাজের শর্তের কারণে তাদের দরপত্র দাখিলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা আরো জানায়, দরপত্র দাখিল প্রতিযোগীতা মূলক হবে এমন আশংকায় কোন বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে উচ্চমূল্যে ক্রয় কাজ পাইয়ে দিতে তাদের প্রিন্সিপালের দরপত্র দাখিলের সুযোগ রাখেনি। এভাবে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে একইভাবে দরপত্র দাখিলের সুযোগ রাখেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে প্রতিষ্ঠানটি বন্দরে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন করে একচ্ছত্তভাবে ৭০ কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেওয়া জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সে প্রতিষ্ঠানটি ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বন্দরে আরেকটি মোবাইল ক্রেনের দরপত্রে সর্বনিম্ম দরদাতা মনোনিত হয়েছিল। বন্দরের ১০টি মোবাইল ক্রেন সরবরাহ কাজের চুক্তিতে ইকম ট্রেড হোল্ডিং (প্রাঃ) লিঃ এর পক্ষে ইকম ট্রেড ইন্টারন্যশনাল এর মালিক মো. রফিকুল ইসলাম প্রিমিয়ার ব্যাংক লিঃ গুলশান শাখা, ঢাকার ২ কোটি ৭৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকার জাল পারফরমেন্স চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অফিসে দাখিল করার অভিযোগে দুদক প্রধান কার্যালয়ের ২০১৫ সালেল ২২ সেপ্টেম্বর দুদক/বিঃ অনু ও তদন্ত-২/৩২-২০১৪/২৭৯৮৪ স্বারক মূলে অনুমোদন সাপেক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর উপ-পরিচালক মো.জাহাঙ্গীর আলম সিএমপি’র বন্দর থানায় দঃ বিঃ ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় প্রতারনার অভিযোগে মামলা (নং-০৪/২০১৫) দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর এই মামলা দায়েরের পর ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারী আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। উক্ত মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে বন্দরের কাজে অযোগ্য হওয়া ইকম হোল্ডিং (প্রাঃ) লিঃ ও ইকম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম একই ঠিকানা ও মালিকানা নিয়ে “বাংলামার্ক” নামক ভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে পুনরায় এই দরপত্রের দরপত্র দলিল ক্রয় করে নতুন করে বন্দরের কাজ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলামার্কের ট্রেড লাইসেন্স পর্যালোচনায় দেখা যায় উল্লেখ্য মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামই বাংলামার্কের প্রোপাইটার।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে ব্যাপক সুনাম অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। এই বন্দরের দরপত্রের মাধ্যমে কেনাকাটার দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম নীতি রয়েছে। তাছাড়া বিগত কয়েক বছর প্রভাবমুক্ত থাকায় কোন প্রকার জটিলতা ছাড়াই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ক্রয় করে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ২৩টি ক্রেনের এই দরপত্রের ক্ষেত্রে মনোনিত বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে উচ্চমূল্যে কাজ পাইয়ে দেয়ার লক্ষে ক্রয় প্রতিযোগীতা সীমিত করার জন্য নিয়ম বর্হিভূতভাবে ইউরোপের নির্দিষ্ট ক্রেন প্রস্তুতকারী দেশ ইতালিকে বাদ দেওয়া এবং প্রি-বিড কনফারেন্সে অগ্রহন যোগ্য শর্ত গোপন সমযোতায় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।



ফেইসবুকে আমরা