চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

চট্টগ্রামে ঊর্ধ্বমুখী সবজির বাজারঃ বিপাকে ক্রেতারা

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০২০-০৮-১২ ১৮:১১:৫৮   বিভাগ:

মো.মুক্তার হোসেন বাবু :: বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আবারও বাড়ছে সবজির দাম। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েই চলেছে। সবজির দাম বাড়ার পিছনে পরিবহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় চাহিদা মতো সবজি আড়তে না আসায় এমনকী উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে সবজির দাম বাড়লেও মাছের দাম কমছে। মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
আলু, পটল, বেগুন, বরবটি, ঢেঁড়স, ধুন্দল, ঝিঙ্গা, করলা, পেঁপেসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে। অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ার কারণে মরিচের দাম কমে আসলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এজন্য সবজির দাম বাড়ার জন্য উত্তরাঞ্চলের বন্যাকে দায়ী করছে সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বুধবার নগরীর বেশ কয়একটি কাঁচাবাজারে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সবজি বাজারে মরিচের দাম গত সপ্তাহে ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে তা এখন কমে কেজি প্রতি ১৬০ টাকা হলেও দাম এখনো বাড়তি রয়েছে। এছাড়া বাজারে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে আলু, টমেটো, গাজর, বরবটির দাম।
সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে পাহাড়তলী বাজারের বিক্রেতা আলী আহমদ জানান, বর্তমানে সবজির সরবরাহ খুব কম। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় সবজির দাম বাড়তি রয়েছে।
এদিকে বর্তমানে কেজি প্রতি দরে আলু ৩২ থেকে মানভেদে ৬০ টাকা, টমেটো ১১০-১২০ টাকা, গাজর ৮০-১২০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা ও শিম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের তুলনায় বাড়তি লক্ষ্য করা গেছে।
এরমধ্যে আলু ৩২, মিষ্টি কুমড়া ২০, কাকরোল ৪০, লাউ ৩৫, পটল ৪০, ঢেঁড়স ৪০, বেগুন ৪০-৫০, তিত করলা ৬০, সুসিন্দা ৩৫, চাল কুমড়া ৩০, পেঁপে ৩০, শসা ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০-৬০, ঝিঙা ও পটল ৫০-৬০, কচুরলতি ৪০-৬০, কচুরমুখী ৬০-৭০ টাকা কেজি প্রতি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও কিছুটা বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০-৪৫ টাকা। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে ছিল। আদার দাম বেড়ে ১৫০-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০-১৫০ টাকার মধ্যে।
এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বাজার কর্মকর্তা মো. সেলিম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামে সবজি উৎপাদন যা হয় তা চাহিদা অনুযায়ী নয়। ফলে আমাদের উত্তরবঙ্গের সবজি উৎপাদনের উপর নির্ভর করতে হয়। এরপরেও চট্টগ্রামে অল্প কিছু উৎপাদন হওয়ার কারণে দাম এখনো অতটা বাড়েনি। উত্তরবঙ্গে সবজির দাম এখনো বাড়তি। বন্যার কারণে তাদের সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে সবজরি দাম আরো বাড়ানোর কোন প্রবণতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে রেয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মূলত সবজি পচনশীল পণ্য। তাই সবজির দাম বাড়ানোর যদি ব্যবসায়ীরা দুই থেকে তিন দিন সবজি মজুদ করে, তাহলে সে সবজি আর বিক্রি করতে হবে না। সবজিগুলো পঁচে যাবে এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের কাছে সবজির সরবরাহ কম থাকার কারণেই দাম বেশি পড়ছে।



ফেইসবুকে আমরা