চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ট্রেনে চড়েছেন যাত্রীরা

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০২০-০৬-০১ ০৩:৫০:৩৩   বিভাগ:

 

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক :: স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ট্রেনে চড়েছেন যাত্রীরা। তবে ট্রেন থেকে নামার পর স্টেশনে অধিকাংশ যাত্রীই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেননি। রোববার বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে ৭টি আন্তঃনগর ট্রেন রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছে।

অপর একটি ট্রেন সিলেট-চট্টগ্রাম লাইনে চলাচল করেছে। প্রতিটি ট্রেনেই নির্ধারিত যাত্রীর চেয়ে ৫০ গুণ যাত্রী কম ভ্রমণ করেছেন। অর্থাৎ করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

প্রথম দিনই শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। তবে, সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন ট্রেনে করে রাজধানীতে আসা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক উদ্বেগ লক্ষ করা গেছে।

একাধিক যাত্রী জানান, দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এমন অবস্থায় একান্ত নিরুপায় হয়েই তারা ট্রেনে ভ্রমণ করছেন।

কঠিন এ সময়ে ট্রেনের ভেতর, বাথরুম, সিটগুলো সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার কথা, কিন্তু তা যথাযথ নয়। এক শ্রেণীর যুবক-শিশুরা ট্রেনগুলোর ভেতর-টয়লেটগুলো পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে রয়েছে।

তাদের নেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ পরিধান। ট্রেনের ভেতর-বাহির জীবাণুনাশক স্প্রে যথাযথভাবে নির্ধারিত শ্রমিকরা (শিশু কিংবা যুবক নয়) যেন করে- অনুরোধ জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এদিকে রোববার দুপুরে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শন করেছেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি ও রেলওয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি আসন খালি রেখে ট্রেনের অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে প্রতিটা ট্রেনের এই অর্ধেক টিকিটের ১০০ ভাগ অনলাইনে বিক্রি হয়। স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য রেলের তরফ থেকে সব ধরনের প্রচেষ্টা রয়েছে।

তবে যাত্রীদেরও দায়বদ্ধতা আছে। যাত্রীদের নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজের নিতে হবে। ট্রেনের ভেতর তারাও যেন প্রয়োজনে জীবাণুনাশক স্প্রে নিয়ে ওঠেন।

হাতল-সিটে-বসার স্থানে ব্যবহার করেন। বর্তমানে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তে ট্রেন চালাচ্ছি। প্রথমে ৮ জোড়া এবং ৩ জুন থেকে আরও ৯ জোড়া ট্রেন চালানো হবে। আগামী ১৫ দিন ট্রেনসহ গণপরিবহন চালিয়ে সরকার দেখবে কী অবস্থা যায়। এই ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ শেষে সরকারের তরফ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেকই আমরা প্রয়োজনীয় করণীয়-ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

গত ২৫ মার্চ থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। রোববার থেকে ৮ জোড়া ট্রেন নিয়ে যাত্রীবহন শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর আগে কমলাপুর স্টেশন থেকে যেকোনো ট্রেন ছেড়ে গেছে কিংবা প্রবেশ করার আগে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে বিরতি দেয়া হতো।

বর্তমানে বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে কোনো ট্রেন বিরতি দিচ্ছে না। কমলাপুর স্টেশনে আসা যাত্রীদের নির্ধারিত ট্রেন ছাড়ার সময়ের ১ ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা আগে স্টেশনে আসতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ রেলওয়ের ১৯টি নির্দেশা মেনে-মানবে বলে এক প্রকার প্রতিশ্রুতি দিয়েই প্রত্যেক যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ করছেন। সবাইকে বাধ্যতামূলক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ থার্মাল স্ক্যানে তাপমাত্রা মাপতে হচ্ছে।

মাক্স পরা অবস্থায় স্টেশনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। দেখা গেছে, প্রত্যেক যাত্রীই মাক্স পরে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্টেশনে প্রবেশ এবং ট্রেনে উঠছেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা সূবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মিজানুর রহমান জানান, তিনি তার স্ত্রীসহ ৩ সন্তান নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। ট্রেনে নিজে জীবাণুনাশক স্প্রে নিয়ে উঠেছেন। কিন্তু, ট্রেনের ভেতর, টয়লেট, সিটগুলো পরিষ্কার ছিল না, যতটুকু থাকার কথা, করোনাভাইরাসের এ সময়ে।

সিটে বসে মাথা রাখার যে জায়গা-সেখানে লাগানো কাপড়টি ওয়ানটাইমের হওয়া উচিত। সিটের ফাঁকফোকরে ধুলোবালি রয়েছে। সিলেট থেকে আসা কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রী হিরুন মিয়া জানান, তিনিসহ তার স্ত্রী ও এক সন্তান এসেছেন।

ট্রেনের ভেতর অকারণে যাত্রীরা চলাচল করেছেন। কেউ বাধাও দেয়নি। তাছাড়া একই হাতল ধরে ট্রেনে উঠতে হয়েছে, নামতে হয়েছে। প্লাটফর্ম এবং ট্রেনের পাদানি সমান থাকলে খুব সহজেই যাত্রীরা ট্রেনের হাতল না ধরেই নামতে-উঠতে পারতেন।

কমলাপুর স্টেশনে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, তাদের পর্যাপ্ত কিংবা যথাযথ নিরাপত্তা সামগ্রী দেয়া হয়নি। একপ্রকার ঝুঁকি নিয়েই তারা কাজ করছেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, স্টেশনে আসা ট্রেনগুলোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে রয়েছে কিছু শিশু ও যুবকরা।

তাদের সবাই ঠিকাদারদের হয়ে অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন। সাতটি প্লাটফর্মে ২৪ জন শিশু-যুবককে এ কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের কারওই নিরাপত্তা সামগ্রী নেই।

কারও কারও মুখে মাক্স পরা থাকলেও নেই হ্যান্ডগ্লাভস কিংবা করোনাভাইরাস প্রতিরোধক কোনো সামগ্রী। এসব শিশু-যুবককে ইচ্ছেমতো কাজ করতে দেখা গেছে। অধিকাংশ শিশু-যুবক নেশা আসক্ত।

সুপারভাইজার মোহাম্মদ মনু জানান, তার সঙ্গে ১২ জন যুবক কাজ করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই শিশু রয়েছে। এসব যুবক-শিশু রাতে স্টেশন এলাকায় থাকে। তাদের দিয়ে স্টেশনে আসা ট্রেনগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাতে হয়।

করোনার এ সময় লিকুইডজাতীয় জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন ট্রেনের ভেতর-টয়লেটগুলোতে। ট্রেনে ট্যাংকে পানি ভরাচ্ছেন। বললেন, এসব শ্রমিক শুধু স্টেশনে থাকা ট্রেনই পরিষ্কার করছে না, তারা ওয়াশফিটে যাওয়া ট্রেনেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। মাসে ৮ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন তাদের যথাযথ নিরাপত্তামূলক পরিধান-পোশাক দেয়া হয়। কারণ, তারা সুস্থ না থাকলে ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবকরা জানান, তাদের অধিকাংশই রাতে স্টেশন এলাকায় ঘুমায়। যা পায় তা খেয়ে কোনো মতো জীবন বাঁচায়। একপ্রকার বাধ্য করা হয় তাদের এসব কাজ করতে। দীর্ঘদিন ট্রেন বন্ধ থাকার সময় ঠিকাদার কিংবা সুপারভাইজাররা তাদের কোনো সহযোগিতা করেননি। এখন একটি মাত্র মাক্স দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছি। ট্রেনের ভেতর-টয়লেটগুলো জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়ে পরিষ্কার করছি, কিন্তু ট্রেনের বাইরে পরিষ্কার করছি না। বাইরে পরিষ্কারের কোনো নির্দেশনাও নেই।

যাত্রা শুরু বনলতার : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, দুই মাসেরও বেশি যাত্রীসেবা বন্ধ থাকার পর ফের যাত্রা শুরু করল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটের একমাত্র বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

রোববার সকাল ৭টায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। এর আগে সেটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী আসে। গত ২৫ মার্চ থেকে পশ্চিম রেলের সব রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

রাজশাহী রেল স্টেশনে জীবাণুনাশক কক্ষের মধ্য দিয়ে প্রবেশ, হাত স্যানিটাইজেশন ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে যাত্রীদের প্রথমবারের মতো ট্রেনে উঠতে হয়েছে। যাত্রার আগে ওয়াশপিটে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জীবাণুমুক্ত করা হয় ট্রেনের ভেতর ও বাইরে।

বগুড়া ব্যুরা জানায়, বগুড়া স্টেশনে যাত্রীদের আনাগোনা ছিল না। রোববার দুপুরে এ স্টেশনে আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস বিরতি দেয়ায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। তিন মিনিট যাত্রা বিরতি শেষে লালমনিরহাট ছেড়ে আসা ট্রানটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

সিলেট ব্যুরো জানায়, রোববার ১৪৩ যাত্রী নিয়ে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে সিলেট ছেড়ে যায় কালনি এক্সপ্রেস আন্তঃনগর এই ট্রেনটি। ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে কালনি এক্সপ্রেস ট্রেন ১৪টি বগি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

স্টেশনে প্রবেশের আগে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে প্রত্যেক যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা মেপে ট্রেনে উঠানো হয়। দুপুর ১টায় ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, লকডাউনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রোববার স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্পসংখ্যক যাত্রী নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। ট্রেনটির টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হয়। স্টেশনে কাউন্টারে কোনো টিকিট বিক্রি করা হয়নি।

শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি (হবিগঞ্জ) জানান, দুই মাস আট দিন পর শায়েস্তাগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ল কালনি ট্রেন। ৩০ যাত্রী নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে রোববার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস। সূত্র:: যুগান্তর



ফেইসবুকে আমরা