চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

প্রবল গতি অর্জন করেছে ঘূর্ণিঝড় আমফান

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০২০-০৫-১৮ ২৩:২১:৩১   বিভাগ:

 

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক :: প্রবল গতি অর্জন করেছে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘুর্ণিঝড় আমফান। সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত এর গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২৪০ কিলোমিটার (১৫০ মাইল)। সাগরে থাকতেই এর গতি আরো বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশীয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কেন্দ্রগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে। তবে স্থলভাগে উঠে আসার আগেই এর গতি কমে যাওয়ার পুর্বাভাসও রয়েছে।

বলা হচ্ছে উপকূলে উঠার সময় এর গতি ঘন্টায় ১৫০ কিলোমিটারে নেমে যেতে পারে। সিএনএন বলেছে, আমফান ইতোমধ্যে আটলান্টিক অঞ্চলের ৪ ক্যাটাগরির হারিকেনের গতিসম্পন্ন হয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, ঘুর্ণিঝড় আমফান উপকূলে উঠার পর গতি দ্রুত কমে গেলেও যা গতিবেগ থাকবে তা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো দুমড়ে-মুচরে দিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। উপকূলে উঠার আগে ও পরে কমপক্ষে ৩০ ফুট (৯মিটার) উচ্চতার জলোচ্ছাসে স্থলভাগের বিশাল অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আমফানের গতির ক্রমবিকাশ : ১৬ মে সকাল ৬টায় ঘুর্ণিঝড় আমফানের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৩৫ কিলোমিটার মাত্র। এরপর ক্রমান্বয়ে এর গতি বেড়ে যায়। তবে উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু ছিল না। সেদিন দুপুর ১২টায় গতি ছিল ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার, সন্ধ্যায় ছিল ৪৫ কিলোমিটার, সেদিন রাত ১২টায় ছিল গতি বেড়ে ৬০ কিলোমিটারে উঠে। ১৭ মে সকাল ৬টায় গতি উঠে ঘন্টায় ৬৫ কিলোমিটার, ওই দিন দুপুর ১২টায় গতি ছিল ঘন্টায় ৭৫ কিলোমিটার, সন্ধ্যা ৬টায় গতি ছিল ১১৫ কিলোমিটার, ১৭ মে রাত ১২টায় গতি ছিল ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার। ১৮ মে সকাল ৬টায় গতি ছিল ঘন্টায় ১৪০ কিলোমিটার। ওইদিন দুপুর ১২টায় গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২১০ কিলোমিটার। তখনই এটি সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয় এবং এটি তখন ২২০ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় গতি বেড়ে দাঁড়ায় ঘন্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে উঠানামা করছিল।

এদিকে কানাডা থেকে আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের পরে বঙ্গোপাসাগরে এত শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড় আর সৃষ্টি হয়নি। সিডর ও আইলার গতিও এতো ছিল না। সিডরের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ২২০ কিলোমিটার।

আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব উইসকিনসন-ম্যাডিসন কর্তৃক পরিচালিত কো-অপারেটিভ ইনস্টিটিউট অব ম্যাটেরিওলজিকেল স্যাটেলাইট স্টাডিজের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে ঘূর্ণিঝড় আমফানকে ক্যাটাগরি ৫ মানের গতিবেগ সম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় বলে অভিহিত করেছে। আগামী ১২ ঘণ্টায় গতিবেগ কিছুটা কমে ২৫০ কিলোমিটার হবার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে স্থল ভাগে আঘাত করার পূর্বে ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কমে ক্যাটেগরি ৩ মানের ঝড় হিসাবে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত করতে পারে ওই একই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

তবে কিছুটা সুসংবাদও রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত যে অবস্থানে ছিল সেখান থেকে সামান্য দিক পরিবর্তন করে ভারতের দিকে কিছুটা সরে গেছে। তবে এখনই আশান্বিত হবার কিছু নাই কারণ এখনও তা স্থলভাগে আঘাত হানার আগে প্রায় ২ দিন অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে যে কোনো সময় আবারও বাংলাদেশের দিকে ঘুরে আসতে পারে।

ঘুর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সুপার সাইক্লোন অর্থাৎ প্রবল গতি অর্জন করে। এটা আগামী বুধবার বাংলাদেশের সুন্দরবন ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘা উপকূলের মাঝখান দিয়ে স্থলভাগে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরো ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার শেষরাত হতে বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ২১০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবশ্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা,

পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতি সত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।



ফেইসবুকে আমরা