চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ পরিবহন শ্রমিকদের

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০২০-০৫-০৭ ১২:৩০:৫৩   বিভাগ:

 

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক :: সরকারি ত্রাণ ও পরিবহন নেতাদের পক্ষ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে। অনাহারে অর্ধাহারে থাকা এসব শ্রমিক খাদ্যের অভাবে রাস্তায় নেমে আসছেন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। বুধবারও রাজধানীর মিরপুর, খুলনা ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। ত্রাণ না পেলে এ ধরনের আরও কর্মসূচি আসতে পারে – এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিবহন নেতারা।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলছেন, গণপরিবহনের ওপর লকডাউনের প্রায় দেড় মাসে তাদের কেউ সাহায্য সহযোগিতা করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পরিবহন শ্রমিক পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নাগরিক সনদের ফটোকপি নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়নি।

এমনকি গণপরিবহন সচল থাকাবস্থায় যারা শ্রমিকদের কল্যাণের নামে চাঁদা তুলতেন তাদেরও দেখা নেই। এমন পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়ে ত্রাণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। কোথাও কোথাও গণপরিবহন চালু করার দাবিও উঠেছে।

মিরপুর : মিরপুর প্রতিনিধি জানান, ত্রাণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরের কালশী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শত শত শ্রমিক বাউনিয়াবাঁধ এলাকা থেকে কালশী সড়কে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রূপনগর ও ভাসানটেক এলাকা থেকেও দুই শতাধিক পরিবহন শ্রমিক কালশী সড়কে যোগ দেন। শ্রমিকরা মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষাভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে কালশী স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন মূল সড়কের দু’পাশ ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলও বন্ধ করে দেন তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে পল্লবী থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা হ্যান্ডমাইক দিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরে যেতে অনুরোধ করলেও তাতে সাড়া দেননি শ্রমিকরা।

এ সময় বিক্ষুব্ধ কয়েকজন শ্রমিক উচ্চস্বরে বলেন, রমজানের শুরু থেকে অনেকের ঘরেই খাবার নেই। কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। যারা গাড়ি থেকে চাঁদা নিয়েছিল তাদেরও দেখা নেই। তালিকায় নাম উঠালেও কোনো সাহায্য মেলেনি। সেহরির সময় শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখছেন অনেকেই।

বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে। পরে তাদের ত্রাণ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হলে রাস্তা ছেড়ে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল মাবুদ বলেন, পল্লবী, রূপনগর ও ভাসানটেক এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। আমরা তাদের বলেছি আপনাদের নামের তালিকা দেন, পল্লবী থানার উদ্যোগে সহায়তা দেয়া হবে। পরে তাদের শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি।

খুলনা : আমাদের খুলনা ব্যুরো জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া মোটরযান শ্রমিকরা সরকারি ত্রাণের দাবিতে বুধবার খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করেন। সকাল ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী তারা ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন।

এ সময় মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ফুলতলা শাখার সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ পিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক সনজিৎ বসু তাদের বক্তৃতায় অভিযোগ করে বলেন, করোনায় প্রায় দেড় মাস ধরে কর্মহীন হয়ে পড়েছে ফুলতলা এলাকার বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার ও ইজিবাইকের সহস্রাধিক শ্রমিক।

ফলে অসহায় মোটর শ্রমিক পরিবার অর্ধাহারে ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সরকারি ত্রাণ প্রদানের প্রতিশ্র“তি দিয়ে দফায় দফায় শ্রমিকদের পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিলেও এ পর্যন্ত তাদের মাঝে কোনো ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা দেয়নি। কর্মসূচি চলাকালে একপর্যায়ে ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

শাহজাদপুর : শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, খাদ্য অথবা বাস চালুর দাবিতে বুধবার দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বিসিক বাসস্ট্যান্ডে পরিবহন শ্রমিকরা বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিক নেতা মোক্তার হোসেন, রাজিব হোসেন, খোকন মিয়া, রায়হান আলী, আরিফ হোসেন, আবদুল মতিন, আক্কেল আলী, সানোয়ার হোসেন, আবু জাফর ও নাজমুল হোসেন বলেন, করোনার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সব বাস-কোচ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ফলে এ উপজেলার প্রায় ৪ হাজার বাস শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের ঘরে খাবার নেই। হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। তারা কীভাবে চলছে মালিক ও শ্রমিক নেতারা তার খোঁজ নেন না। ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

বারবার শ্রমিক নেতাদের বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। অবরোধকারীরা আরও বলেন, শ্রমিক নেতারা সারা বছর শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা উত্তোলন করেন। অথচ এ মহামারীর সময় শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো সাহায্য সহযোগিতা করছে না।

সরকারিভাবে যে বরাদ্দ আসে তা নেতাদের চামচাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যায়। ফলে আমরা কোনো সাহায্য পাই না। তাই বাধ্য হয়ে – হয় খাদ্য, নয়তো বাস চালুর দাবি জানিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছি। এদিকে এ অবরোধ চলাকালে সড়কের দু’পাশে শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে দুপুরে শাহজাদপুরে অবস্থিত সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এসে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে নগদ টাকা অথবা খাদ্যসামগ্রী দেয়ার আশ্বাস দিলে তারা আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত এ অবরোধ তুলে নেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দেড় মাস ধরে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। পেটের দায়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন। প্রায় ৪ হাজার শ্রমিকের জন্য শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৫০০ ব্যাগ খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০০ শ্রমিককে নগদ সহায়তা করা হয়েছে। ৮০০ শ্রমিককে সহায়তা দেয়া হলেও এখনও ৩ হাজার ২০০ শ্রমিককে কোনো সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তারা আন্দোলন শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব তাদের চাল অথবা নগদ অর্থ সহায়তা করা হবে।

গণপরিবহন চালুর দাবি : এদিকে বাংলাদেশ অটোরিকশা অটোটেম্পো (হালকাযান) পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুক এক বিবৃতিতে গণপরিবহন চালুর দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, চালকরা অনাহারে ও অর্ধাহারে জীবন কাটাচ্ছেন। চালকদের ত্রাণের দাবিতে আবেদন করেও কিছু পাওয়া যায়নি। সরকার দোকান, শিল্পকারখানা, শপিংমল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; কিন্তু গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই শ্রমিকদের হয় ত্রাণ দিন, নয়তো কাজ দিন।



ফেইসবুকে আমরা