চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

সরকারবিরোধী হলে ৩০ ডিসেম্বরের পরই আন্দোলনে নামতাম: ভিপি নুর

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০১৯-১১-১৩ ১৫:১৫:২২   বিভাগ:

 

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেছেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক আন্দোলনগুলোকে সরকারবিরোধী আখ্যা দেয়া হয়। আমরা সরকারবিরোধী আন্দোলন করলে ৩০ ডিসেম্বরে যে ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে, তার পরই রাস্তায় নামতাম, আন্দোলন করতাম। কিন্তু নৈতিকতার জায়গা থেকে যখন আমরা কথা বলি, তখন কোনো যৌক্তিকতা বিবেচনা না করে আপনারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পান। কারণ আপনারা নিজেরা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

বিভিন্ন ঘটনায় সরকার প্রধানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, দেশে এখন প্রতিটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য রাখতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নৈতিক স্খলনের কারণে যখন আন্দোলন হয় তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়। এর মাধ্যমে বুঝা যায় রাষ্ট্রের কোনো একটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অপসারণ দাবি করে নুরুল হক নুর বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে দাবি দুর্নীতিবাজ ভিসিকে অপসারণ, আমরা তাদের সঙ্গে সম্মতি পোষণ করছি। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার এবং এই দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের অপসারণ দাবি করছি।

সব অনিয়ম-অপরাধের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, আজকে সমাজ ও রাষ্ট্রের যেভাবে পচন ধরেছে তা ছাত্র-শিক্ষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দূর করতে হবে। দেশে এখন বিভিন্ন অনিয়ম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ এগিয়ে আসছে। যার বহিঃপ্রকাশ আমরা জাহাঙ্গীরনগরে দেখতে পাচ্ছি।

উপাচার্যকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নিজের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে আপনি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করেছেন। আপনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের দাবি শুনে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু আপনি তা করেননি। আপনার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যই প্রমাণ করে আপনি দুর্নীতিবাজ। সরকারের উদ্দেশে নূর বলেন, প্রমাণ দেয়ার দায়িত্ব আন্দোলনকারীদের না।

অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য দেশে গোয়েন্দা সংস্থা আছে। দেশের গোয়েন্দা সংস্থা জনগণকে হয়রানি করার জন্য নয়। দেশের ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইউজিসিতে তদন্তাধীন। তাদের এভাবে কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজের দলের উপাচার্যকে সরানো সম্ভব! তাহলে তো আর কাউকেউ উপাচার্য বানানো সম্ভব হবে না।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ আন্দোলন শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নয়। এটা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই আন্দোলন ঠিকই ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি প্রমুখ।



ফেইসবুকে আমরা