চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১

সরকারের বিদায় ঘণ্টার ধ্বনি শুনা যাচ্ছে- প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০১৯-১০-২৬ ১৭:৪৮:২৫   বিভাগ:

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক:: আপনাদের মাধ্যমে সকলের অবগতির জন্য আমরা বলতে চাই যে, বর্তমানে দুর্নীতির শিখড় সরকার, সরকারী দল, রাজনীতিবিদ এবং সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করেছে। যেমন- প্রত্যেক উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলার সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ, কিছু কিছু এমপি, তাদের পরিবারের সদস্য, এমপি’র স্ত্রী এবং অনেক মন্ত্রী’র নামও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিগত ১০ (দশ) বছর পূর্বে তাদের সম্পদের পরিমাণ কত ছিল- বর্তমানে কত, তা বের করা উচিত। এতে করে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, জনগণের প্রতি অবিচার করা হবে। দুর্নীতিবাজদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে হবে। অন্যথায় দেশ আরো দ্রুত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। আল্লাহ্র নিকট আমরা দায়ী থাকব ।
অনুরূপভাবে সরকারের অনুগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। নতুন ভাবে চাকুরিতে যোগদানের জন্যও টাকা দিতে হয়। ভাল পদে বদলীর জন্যও টাকা দিতে হয়। এমনকি পদোন্নতি পাওয়ার জন্যও টাকা দিতে হয়। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
আইন এবং প্রশাসনকে তার নিজস্ব গতিতে আইন অনুযায়ী চলতে দিতে হবে। নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন করতে হবে। কোন সরকারী বা বেসরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী কোন রাজনৈতিক দলের তাবেদার হিসেবে কাজ করবে না। তারা হবে জনগণের সেবক ও আইনের রক্ষক। সকল ক্ষেত্রে লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে মেধার ভিত্তিতে পদায়ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতেই দেশের মঙ্গল হবে। জনগণ উপকৃত হবে, গণতন্ত্র সুদৃঢ় হবে, সুশাসন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে সরকার মাদক, ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে যে ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা শুধু বড় বড় দুর্নীতি বাজদের রক্ষা করার জন্য জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। যে সমস্ত মন্ত্রী, এমপি বা তাদের পরিবার বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়েছে, মার্সিডিস গাড়ী নিয়েছে তাদের নাম সুস্পষ্টভাবে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অদ্যবধি তারা ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে। বর্তমান সরকারের আমলে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারী, ব্যাংক ডাকাত, শেয়ার মার্কেটের টাকা লুণ্ঠনকারীসহ বড় কোন দুর্নীতিবাজ এখনও পর্যন্ত শাস্তি পায় নাই। কারণ বিচারের দীর্ঘ সূত্রিতা এবং আইনের অপপ্রয়োগ। ফলে জনগণ কষ্ট পায় এবং হতাশাগ্রস্থ হয়। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সমাজ বিপদগামী হয় এবং দুর্নীতিবাজরা উৎসাহিত হয়। জনগণ মনে করে, দুর্নীতিবাজরা সব ম্যানেজ করতে পারে, তাদের টাকা কথা বলে। তাদের জামিন পেতেও সমস্যা হয় না।
শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংকের টাকা লুণ্ঠন- বর্তমান সরকারের আমলে ৩ বার শেয়ার মার্কেটে কারসাজি করে ধস্ নামানো হয়েছে, অনুরূপভাবে প্রায় দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুণ্ঠন করে এবং ঐ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সবাই জানে এর জন্য কারা দায়ী, সরকার কেন জানে না বা ঐ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। জনগণ তা জানতে চায়। জনগণ মনে করে সরকারও এর সাথে জড়িত।
জি কে শামীম ও স¤্রাট ব্যতীত অন্যান্য অনেকে যারা টেন্ডার, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন ভবন দখল এবং এমনকি বান্দরবানে নতুন নির্মিতব্য হোটেল মালিকদেরকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় নাই। কারণ সরকার তাদের পৃষ্ঠপোষক।
পত্র পত্রিকায় দেখলাম, সরকার তাদের দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বহিরাগত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা খুবই প্রশংসনীয়, কিন্তু নিজের দলের চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা পরিস্কার করে বলছে না। কিছু কিছু চমক দেখিয়ে সরকার বাহাবা নিতে ব্যস্ত। জনগণ মনে করে, বিগত বছরে যারা মন্ত্রী/এমপি ছিল বা এখনও আছে তাদের ও তাদের স্ত্রী’র ওঞ জবঃঁৎহ চেক করলে দুর্নীতির অনেক নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৯৯৬ সালের পর থেকে বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারী ও আধাসরকারী প্রতিষ্ঠান- যুবলীগ/ছাত্রলীগ এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দেশে সুশাসন ও ন্যায় বিচার বিলুপ্তির পথে। অথচ তারাই হচ্ছে জনগণের সেবক এবং ন্যায়দÐধারী।
হঠাৎ করে শোরগোল শুরু হল যে, বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলিতে র‌্যাগিং হয়। হলের চৎড়াড়ংঃ এবং টহরাবৎংরঃু ঠঈ এ ব্যাপারে অজ্ঞ। জনগণ জানে, নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তারা বিপথগামী করেছে এবং অবৈধ কর্মকাÐে লিপ্ত হওয়ার জন্য সহযোগিতা করেছে। এ ধরণের র‌্যাগিং বর্বরতার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। কারণ তারা অযোগ্য, অদক্ষ, দুর্নীতিবাজ ও দলীয় সেবা দাস। দলের আনুগত্যের কারণে পদায়ন হয়েছে। শিক্ষক হবে অভিভাবক, আদর্শবান, নীতিবান এবং পথ প্রদর্শক। সময় এসেছে এ ধরণের দেশদ্রোহী এবং জ্ঞানপাপী শিক্ষকদের চিহ্নিত করা এবং তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করা। অন্যথায় শিক্ষার মান কখনো উর্ধ্বমুখী হবে না। জাতি হিসেবে আমরা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাব।
সামাজিক অবক্ষয় ও মনুষ্যত্ব লোপ পাওয়ার জন্য অনেকাংশে বর্তমান পারিপার্শ্বিক অবস্থা দায়ী। প্রতিনিয়ত পত্র পত্রিকায় দেখা যায়- বাবা, তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েদেরকে হত্যা করছে। স্বামী- স্ত্রীকে হত্যা করছে, স্ত্রী- স্বামীকে হত্যা করছে। যুবলীগ/ছাত্রলীগ ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও নির্যাতন করছে। তাহলে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়। সমাজের এ অবস্থার জন্য কে দায়ী? আমাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব কিভাবে লোপ পেল? সামাজিক অবক্ষয় এবং অস্থিরতার কারণ কি? সরকারকে অবশ্যই এর দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে, জওয়াবদিহি করতে হবে। আর সময় ক্ষেপন না করে, আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর সমাধান বের করতে হবে। শুধু এক নুসরাত হত্যাকান্ডের ত্বড়িৎ বিচার করে পার পাওয়া যাবে না। সাগর-রুনিসহ বহু হত্যাকান্ডের বিচার যুগ যুগ ধরে ঝুলে আছে। এর জবাব কে দেবে।
আমরা পরীক্ষায় অ+, এড়ষফবহ অ+ ও ডিগ্রি অর্জন করছি, কিন্তু সমাজ থেকে মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষ হচ্ছি না। এর জন্য দায়ী রাষ্ট্রের নীতি। শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে হবে এবং মন্যুষত্ব বিকাশের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। সার্টিফিকেট বিক্রি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।
যানজটের কারণে জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় জনগণকে রাস্তায় কাটাতে হয়। এই যানজটের মূল কারণ, ফুটপাতে ব্যবসা বাণিজ্য, অবৈধ পার্কিং, ট্রাক ও বাস থেকে চাঁদাবাজী এবং রিক্সার দাপট। নতুনভাবে সংযোজন হয়েছে, গাড়ীতে ফিটনেস না থাকলে জরিমানা করা হয় এবং সাথে সাথে ন্যুনতম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। অন্যথায় রেহায় নাই। সরকার জেনে শুনেও নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। দুদকও নীবর ভুমিকা পালন করছে। কেন অবৈধভাবে চাঁদা তোলা হচ্ছে, কি কারণে ফুটপাত খালি করা হচ্ছে না, গাড়ির ফিটনেস চেক করতে কেন ঘুষ নেওয়া হচ্ছে, জনগণ এর জবাব চায়। এ অবস্থা থেকে যত দ্রত সম্ভব বেরিয়ে আসতে হবে। এটা মোটেও কঠিন বিষয় নয়। প্রয়োজন সদ্বিচ্ছা ও দৃঢ়তা।
দেশের বর্তমান করুণ অবস্থা এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য নির্বাচন কমিশনও তাদের দায় এড়াতে পারে না। কারণ নির্বাচন কমিশন কখনও তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে নাই। বরং সরকারের সেবা দাস হিসেবে সবসময় কাজ করেছে। তাদের কর্মকান্ডে জনগণের প্রতি কোন দায়দায়িত্ব আছে বলে মনে হয় না। জনগণকে তারা হতাশ করেছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন ‘বেকার ও বৃদ্ধ পুনর্বাসন কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করছে। দেশপ্রেমিক, সৎ এবং দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনকে নতুন ভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।

অনুরূপভাবে, দুদককেও পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার না করে, নতুন ভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। দুদকের কর্মক্ষমতা, কর্মদক্ষতা, কর্মপরিধি, নিরপেক্ষতা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় ভিত্তিতে দুদকে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। তাহলেই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে।

বর্তমান সরকারের আমলে বিনা ভোটে ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জাতীয় সংসদসহ সকল স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, দিনের পরিবর্তে রাত্রির অন্ধকারে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার প্রথা চালু হয়। ভোট ডাকাতি, একদলীয় শাসন কায়েমের মাধ্যমে অন্যায় অত্যাচার, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রবাজী, দুঃশাসন, অবিচার, দুর্নীতি, বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার হরণ এবং সর্বস্তরে দলীয়করণসহ সকল ব্যাপারে সমগ্র পৃথিবী অবগত। দেশ আজ দোজখে পরিণত হয়েছে। জনগণ কি ধরণের দোজখের মধ্যে বসবাস করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এখন প্রয়োজন সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। যথাসময়ে দলে দলে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘর থেকে বের হতে হবে। দেশকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য সকলকে ভুমিকা রাখতে হবে। ঘরে বসে থাকলে আর কখনও দেশে শান্তি ফিরে আসবে না। আসুন ঐক্যবদ্ধ হই, দেশকে রক্ষা করি। এতে করে সরকারের বিদায় ঘণ্টার ধ্বনি শুনা যাবে।
ইন্সআল্লাহ্ উত্তরণ ঘটবে, পুনঃ নির্বাচন হবে। সৎ, নিষ্ঠাবান এবং দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে। তাদের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে। প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতির অবসান হবে। সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার দেশ পরিচালনা করবে এবং গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।

প্রেস রিলিজ



ফেইসবুকে আমরা